রুট কি, কেন রুট করবেন, রুট করার উপকারিতা ও অপকারীতা – 24Tokbd
Be a Trainer! Share your knowledge.
HomeUncategorisedরুট কি, কেন রুট করবেন, রুট করার উপকারিতা ও অপকারীতা

রুট কি, কেন রুট করবেন, রুট করার উপকারিতা ও অপকারীতা

আস্সলামু আলাইকুম

সবাই কেমন আছেন আশা করি ভাল, আর আমাদের সাথে থাকলে ভালো থাকারই কথা। আজকে আমরা রুট আলোচনা করব, তাই বেশি কথা না বলাই ভালো।

# রুট কি

রুট কথাটার সাথে এন্ড্রয়েড অধিকাংশ ইউজাররাই জানে। এন্ড্রয়েড রুট বলতে বুঝায় ফোনের সর্বোচ্চ এক্সেস নেওয়া। মুলত এন্ড্রোয়েড বানানো হয়েছে লিনাক্স কোড দিয়ে। এর সিকিউরিটি সিস্টেম ও লিনাক্স কোড দিয়ে সুরক্ষিত। এই সিকিউরিটি সিস্টেম এর কারণে এন্ড্রয়েডের বেশকিছু ফিচার সাধারণ ইউজার রা ইউজ করতে পারে না। কারণ উল্টাপাল্টা কিছু হলে ফোনের ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। তাই সিকিউরিটি দিয়ে এইসব ফিচার লক করে দেওয়া হয়। সোজা কথায় ইউজারকে ফোনের ফুল এক্সেস দেওয়া হয়না।রুট করলে ফোনের এই সিকিউরিটি সিস্টেম ভেঙে ফেলা হয়। যার কারণে আর কোনো বিধিনিষেধ থাকেনা এবং ফোনের ফুল কন্ট্রোল ইউজারের হাতে চলে আসে। তখন ইউজার ফোন একটি ফোন দিয়ে যা যা করা সম্ভব তা সবই করতে পারে।

# রুট করার সুবিধা

১। ফোন ফাস্ট করা : বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করে ডিভাইসের অব্যবহৃত ফাইল, টেমপোরারি ফাইল ইত্যাদি নিয়মিত মুছে ফোনের গতি ঠিক রাখা।

২। বিল্ট ইন এপ রিমুভ : ফোনের বিল্ট ইন এপ আনইন্সটল করতে পারবেন, অনেক অনেকসময় দেখা যায় যে ফোন কোম্পানিগুলো থেকে কিছু অপ্রয়োজনীয় বিল্ট-ইন এপ দিয়ে দেয়, যা ফোন স্লো হয়ার জন্য দায়ী, রুট করার পর এসকল এপ রিমুভ করতে পারবেন,

৩। ওভারক্লকিং/আন্ডারক্লকিং : ফোনের সিপিইউ, জিপিইউ ওভারক্লকিং আন্ডারক্লকিং এর মাধ্যমে চাইলে আপনি আপনার ফোনকে যেমন হাই স্পিড ফোনে রূপান্তর করতে পারবেন; তেমনি আবার সুপার পাওয়ার সেভার ও বানিয়ে ফেলতে পারবেন।

৪। বুট এনিমেশন চেঞ্জ : রুট করার পর আপনার ইচ্ছামতো ফোনের বুট এনিমেশন চেঞ্জ করতে পারবেন। এজন্য গুগুলে সার্স
করেই আপনার পছন্দমত বুট এনিমেশন জিপ আকারে পেয়ে যাবেন,

৫। ব্যাটারি ব্যাকআপ : রুট করার পর নানান এপ ব্যবহার করে ফোনের ব্যাটারি ব্যাকআপ বাড়ানো সম্ভব, এজন্য: Greenify, Prevent running (xposed modules), cpu manager জনপ্রিয়।

৬। কাস্টম রম : ইন্সটল করার সুবিধা, অনেক ডেভেলপার বিভিন্ন জনপ্রিয় ডিভাইসের জন্য কাস্টম রম তৈরি করে থাকেন। এসব রম ইন্সটল করে আপনি আপনার সেটকে সম্পূর্ণ নতুন একটি সেটের রূপ দিতে পারবেন। বাইরে থেকে অবশ্যই এর ডানা-পাখনা গজাবে না বা ক্যামেরা ৫ মেগাপিক্সেল থেকে ৮ মেগাপিক্সেল হবে না, কিন্তু ভেতরের ডিজাইন ও ক্ষেত্রবিশেষে পারফরম্যান্সেও আসবে আমূল পরিবর্তন।

# রুট করার অসুবিধা :

১। ওয়ারেন্টি হারানো : ডিভাইস রুট করার মাধ্যমে আপনার ওয়ারেন্টি বাতিল হয়ে যাবে। তাই রুট করার আগে সাবধান। অবশ্য অনেক সেট আবার আনরুট করা যায়। আর সেট আনরুট করা হলে তা সার্ভিস সেন্টারে থাকা টেকনিশিয়ানরা অনেক সময়ই ধরতে পারেন না যে সেটটি রুট করা হয়েছিল। তবে কাস্টম রম থাকলে ধরা খাওয়া এড়ানোর উপায় নেই।

৩। ব্রিক হওয়ার ভয় : ব্রিক অর্থ ইট। আর ফোন ব্রিক মানে আপনার ডিভাইসকে ইটে রূপান্তরিত করা। অর্থাৎ, এর কাজ করার ক্ষমতা হারানো। রুট করা ও এর পরবর্তী বিভিন্ন কাজের সময় একটু এদিক-সেদিক হলেই ফোনে স্থায়ী বা অস্থায়ী সমস্যা হতে পারে। আপনার ফোনের প্রস্তুতকারক কোম্পানি ফোনটি আনরুট অবস্থায় দেন যেন এর ক্ষতি না হয়। রুট করার মাধ্যমে আপনি সেই নিশ্চয়তা ভেঙ্গে ফেলছেন।

এই ছিল রুট নিয়ে যত বকবকানি। রুট নিয়ে বা এর করা-না করা, উপকারিতা-অপকারিতা নিয়ে আরও অনেক কথা বলা যায়, কিন্তু এগুলোই হচ্ছে বেসিক কথা। আশা করছি এতটুকু পড়েই আপনারা বেশ স্পষ্ট একটি ধারণা পেয়েছেন ডিভাইস কেন রুট করা হয়, এর সুবিধা-অসুবিধা ইত্যাদি। এবার আপনার পালা। আপনার ডিভাইসটি কি রুট করা? রুট করা হলে আমাদের জানাতে পারেন কীভাবে ডিভাইসটি রুট করেছেন। আর যদি এখনও রুট না করে থাকেন, তাহলে মন্তব্যের ঘরে বলুন এইলেখা পড়ে আপনি কী ভাবছেন। রুট করবেন? নাকি রুট করবেন না?

11 months ago (4:15 am) 132 views

পোস্টটি শেয়ার করুন

About Author (3)

Super Rox
Administrator

{কোনো সময় বলনা যে তুমি কিছু জান না।} _________{You should never say you don't know. }

Leave a Reply

You must be Logged in to post comment.

Related Posts

www.000webhost.com